জার্মানিতে আসার পর নিজেকে একা মনে করেন না- এমন মানুষ খুবই কম। আর যারা বিয়ে করে এসেছেন, তাদের একাকিত্ব সম্ভবত অন্যদের চেয়ে আরও একটু বেশি। নিজের বউ বা স্বামী ছেড়ে বিদেশে দিন কাটানো আর বছর কাটানো প্রায় সমান!!! (নিজের অভিজ্ঞতা)
মূল কথায় আসা যাক। জার্মানিতে আসার পর অনেকেরই ইচ্ছা থাকে নিজের স্পাউসকে জার্মানিতে নিয়ে আসার। এজন্য সঠিক দিক নির্দেশনা ও কর্ম পরিকল্পনা সাজাতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। ঝামেলা কিছুটা কমানোর লক্ষ্যে আমি ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করবো নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে।
এজন্য প্রথমেই বলব- আপনি যে সিটিতে আছেন, সেই সিটির ফরেইন অ্যাফেয়ার্স অফিসে যান (আউসল্যান্ডার-বিহোর্ডে) বা মেইল করেন। জানতে চান আপনি আপনার স্পাউস আনতে পারবেন কি না। কারণ এই বিষয়টি শুধু স্টেট বা সিটি না অনেকক্ষেত্রে ভিসা অফিসারের উপর নির্ভর করে। তাই সবচেয়ে ভালো হয়, সম্ভব হলে নিজে সশরীরে গিয়ে এই ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়ে নেয়া। কারণ অনেক সিটিতেই শুনেছি স্টুডেন্ট অবস্থায় স্পাউস আনতে দিচ্ছেনা। আবার অনেক সিটিতে বিয়ে জার্মানিতে আসার পরে করলে, স্পাউস ভিসা দিবেনা বলে দিচ্ছে (মিউনিখে এক পরিচিত ভাই নিজেই ভুক্তভোগী)।
আপনার ভিসা অফিসার যদি আপনাকে ‘গ্রীন সিগন্যাল’ দেয় মনে করতে পারেন প্রথম দিকের বিশাল এক ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এরপর আপনি জেনে নিন তাদের রিকয়ারমেন্ট কী কী? যেমন- ব্লক করতে হবে কী না, কত ব্লক করতে হবে, বাসার জন্য স্পেস কত দরকার ইত্যাদি। যদিও তারা আপনাকে অনেকক্ষেত্রেই একটি চেকলিস্ট দিয়ে দিবে।
এবার আসি যারা এখনো জার্মানিতে আসেন নি, কিন্তু আসার পর স্পাউস আনতে চান তারা কীভাবে খবর নিবেন। আপনি অফার লেটার পেয়ে থাকলে, কষ্ট করে আপনার ভার্সিটি যে সিটিতে সেই সিটির নামের সাথে auslanderbehorde লিখে গুগুল করুন। রেজাল্ট পেয়ে যাবেন। তাদেরকে আপনার জিজ্ঞাসাগুলো নিয়ে মেইল করুন। জবাব পাবেন মোটামুটি শিউর। এটা এই জন্যই বলা যাতে অনেকের জন্য ভার্সিটি নির্বাচন সহজ হয়।
প্রথম ধাপ শেষ, দ্বিতীয় ধাপ শুরু….আপনার স্পাউসের চোখ বন্ধ করে জার্মান ল্যাংগুয়েজ শেখা স্টার্ট করিয়ে দিন (যদি তাড়াতাড়ি আনতে চান আমার মতো)। সম্ভব হলে ‘ক্রাশ/বুলেট/রকেট’ এই টাইপ শর্ট-কোর্স থাকলে, তাতে ভর্তি করিয়ে দেন। যেখানেই ল্যাংগুয়েজ করুক সমস্যা নেই। পরীক্ষা সেই ‘গোয়েথে’-তেই দিতে হবে। এরপর কষ্ট করে
ফ্যামিলি-রিইউনিয়ন ভিসার জন্য চেকলিস্টের ফাইল ডাউনলোড করে নিন। চেকলিস্টের কিছু কাজ আপমার এবং কিছু কাজ আপনার স্পাউসের। দুজনে কাজ ভাগ করে করতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনি জার্মানিতে যেহেতু আছেন, আপনি আপনার স্পাউসকে গাইড করার চেষ্টা করুন কীভাবে কী করতে হবে।
চেকলিস্টের প্রতিটি পয়েন্ট নিয়ে বিস্তারিত দ্বিতীয় পর্বে এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও বাদবাকি কাজের বিবরণ থাকছে পরের তৃতীয় পর্বে।

