২০২০ সালের ১৭ মার্চ। এই তারিখ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ কারণে হয়ত স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে। এই বিশেষ কারণটি হলো- এই ১৭ মার্চ ২০২০ তারিখের পর বৈশ্বিক করোনা প্যান্ডেমিকের কারণে বাংলাদেশের সকল ধরনের স্কুল-কলেজগুলো বন্ধ হলেও আজ অব্দি খোলেনি। দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের মুখ দেখনি; ছোঁয়া পায়নি!!!
সারাবিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও করোনার তান্ডবে বিভিন্ন বিপর্যস্ত শিক্ষা-খাত। বিভিন্ন মেয়াদে বারবার বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি। সেটি গড়াতে গড়াতে টানা দ্বিতীয় শিক্ষাবর্ষ অনেকের শেষ হতে চলেছে। আর এর মাঝে আমরা পেয়েছি অটোপাস, এসাইনমেন্টের মাধ্যমে পাস সহ বিভিন্ন নতুন বিষয়ের দেখা।
বিভিন্ন মেয়াদে অফিস-আদালত, দোকান-পাট থেকে শুরু করে দিলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো না খোলার কারণে গত কিছুদিন ধরেই খুব ভালোভাবেই কথা শুরু হয়েছে চারিদিকে। এর কারণে সরকারকে দুষছেন অনেকে। এর ফলাফল হোক বা না হোক- আপাতত সুখবর হচ্ছে- আশা করা যাচ্ছে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে!!! যদিও অনেকবার এর আগে খোলার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সেটি কার্যকর না হওয়ায় এবারও অনেকের মধ্যে রয়েছে ধোঁয়াশা।
অন্যবারের চেয়ে এবার করোনা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত একটু স্বস্তিদায়ক হওয়ার আশা করা যাচ্ছে হয়ত শিক্ষাপ্রতিষথানগুলো আসলেই খুলবে। তবে, তার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। আর স্কুল-কলেজগুলো খুললেও কীভাবে ক্লাস হবে, কতদিন হবে, সে বিষয়েও একটি ধারণা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি দিয়েছেন। কী কী একটু সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক-
- শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে।
- স্কুলে অবশ্যই স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা রাখতে এবং থাকতে হবে। এক্ষেত্রে স্কুলে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক
- যাঁদের শারীরিক সমস্যা হতে পারে মাস্ক পরার কারণে, তাঁরা অবশ্যই শিক্ষককে জানিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
- প্রাথমিক স্কুলের ক্ষেত্রে প্রথম হতে চতুর্থ শ্রেণি এবং হাইস্কুলে ষষ্ঠ হতে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন করে।
- প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাসও চলবে প্রতিদিন।
- ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি এবং এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই ক্লাস চলবে।
- শুরুর দিকে দিনে ৪ হতে ৫ ঘণ্টা করে ক্লাস নেয়া হবে। পরে সময় আরও বাড়ানো হবে।
- স্কুলে কোনো অ্যাসেম্বলি হবে না।
- খেলাধূলা হবে স্বল্প পরিসরে।
- ক্লাসে ঢুকতে হবে এবং বেরুতে হবে লাইন বেঁধে।
স্কুল-কলেজগুলো খাওলার সিদ্ধান্ত হলেও বিশ্ববিদ্যায়গুলো এখনও খোলার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সিন্ডিকেটের সভা করে খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।
আবারও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখোরিত হোক শিক্ষাঙ্গণ, করোনা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাক সারাবিশ্ব।
লিখেছেন- মুহাম্মদ মুহিব হাসান

