আল্লাহ আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছে তাঁর ইবাদতের জন্য। এই ইবাদতের সর্বোত্তম ও ফরজ বিষয় হলো সালাত। সালাতের ভেতরের সকল দু’আ ও সূরা আমাদেরকে আরবীতে পাঠা করতে হয়। আর আমরা জানি কুরআন মাজিদের ভাষাও আরবী। কুরআন মাজিদ শুদ্ধভাবে পড়ার জন্য যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিয়য়ের জ্ঞান থাকা জরুরী, তার মধ্যে মাখরাজ অন্যতম।
মাখরাজ শব্দটি একটি আরবি শব্দ যার বাংলা অর্থ বের হওয়ার স্থান। মূলত আরবি হরফ উচ্চারণের স্থানকে আমরা মাখরাজ বলে থাকি। আরবি ২৯টি হরফ মোট ১৭টি স্থান থেকে উচ্চারিত হয় বলে মাখরাজ ১৭টি। তিনটি স্থান- হলক বা কন্ঠনালী, মুখের গহবর ও ঠোঁট থেকেই সহগুলো আরবি হরফ উচ্চারিত হলেও কন্ঠনালী বা মুখের ভেতরের বিভিন্ন অংশ থেকে ভিন্ন ভিন্ন হরফ উচ্চারিত হওয়ায় মাখরাজ ১৭টি।
মাখরাখ বোঝার জন্য রয়েছে একটি সুন্দর ও সহজ পদ্ধতি। অর্থাৎ আমরা কীভাবে বুঝতে পারব যে, কোন হরফ কোথা থেকে উচ্চারিত হচ্ছে-
কোনো হরফকে সাকিন করে ডানে একটি হরকতযুক্ত আলিফ বসিয়ে উচ্চারণ করলে সাকিনযুক্ত হরফটির আওয়াজ যে স্থানে এসে থেমে যায় বা শেষ হয়, তা হলো সে হরফের মাখরাজ বা উচ্চারণের স্থান। অর্থাৎ- أَب (আব)। এখানে ب (বা) বর্ণের উচ্চারণ দুই ঠোঁটে এসে শেষ হয়েছে বা উচ্চরন দুই ঠোঁটে থেমেছে। তাই ب (বা) বর্ণের মাখরাজ দুই ঠোঁট।
আমাদেরকে জানতে হবে শুদ্ধভাবে আরবী ভাষায় কুরআন পড়তে ১৭টি মাখরাজ। মাখরাজ ও হরফগুলো হলো-
১. কন্ঠনালীর শুরু হতে- হামযা, হা ه- ء
২. কন্ঠনালীর মাঝখান হতে- আইন, হা ع- ح
৩. কন্ঠনালীর শেষ ভাগ হতে- গঈন, খ غ-خ
৪. জিহবার গোড়া, তার বরাবর উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে- ক্বফ ق
৫. জিহবার গোড়া হতে একটু আগে বাড়িয়ে তার বরাবর ওপরের তালুর সাথে লাগিয়ে- কাফ ك
৬. জিহবার মধ্যভা্গ, তার বরাবর উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে- ইয়া, শিন, জিম ي-ش-ج
৭. জিহবার গোড়ার কিনারা, উপরের মাড়ির দাঁতের গোড়ার সাথে লাগিয়ে- দোয়াদ ض
৮. জিহবার অগ্রভাগের কিনারা, সামনের উপরের একপাশের দাঁতের গোড়ার সাথে লাগিয়ে- লাম ل
৯. জিহবার অগ্রভাগ, তার বরাবর উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে- নূন ن
১০. জিহবার অগ্রভাগের পিঠ, তার বরাবর উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে- রা ر
১১. জিহবার অগ্রভাগ, সামনের উপরের দুই দাঁতের গোড়ার সাথে লাগিয়ে- তা, দাল, ত্ব ت-د-ط
১২. জিহবার অগ্রভাগ, সামনের উপরের দুই দাঁতের অগ্রভাগের সাথে লাগিয়ে- যা, ছিন, সোয়াদ ز-س-ص
১৩. জিহবার অগ্রভাগ, সামনের উপরের দু্ই দাঁতের অগ্রভাগের সাথে লাগিয়ে- ছা, যাল, য্ব ث-ذ-ظ
১৪. নিচের ঠোঁটের পেট (ভেজা অংশ) সামনের উপরের দুই দাঁতের অগ্রভাগের সাথে লাগিয়ে- ফা ف
১৫. দুই ঠোঁট হতে- মীম, বা, ওয়াও। (ওয়াও উচ্চারণের সময় দুই ঠোঁট গোল হবে) م-ب-و
১৬. মুখের খালি জায়গা হতে মদ্দের হরফ উচ্চারিত হয়। মাদ্দের হরফ তিনটি। ওয়াও, আলিফ ও ইয়া। যবরের বাম পাশে খালি আলিফ, পেশের বাম পাশে জযমযুক্ত ওয়াও এবং জেরের বাম পাশে জযমযুক্ত ইয়া। মাদ্দের হরফ এক আলিফ টেনে পড়তে হয়। যেমন- বা, বূ, বী با-بُؤْ-بِئ
(অবশ্য তিন আলিফ ও চার আলিফ মাদ্দ ও আছে। তবে সেগুলোর নিয়ম ভিন্ন যা আমরা মাদ্দের পোস্টে আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লা্হ)
১৭নং মাখরাজ: নাকের গহবর (বাঁশী) হতে গুন্নাহ উচ্চারিত হয়- ইন্না, আন্না, আম্মা ইত্যাদি اِنَّ-اَنَّ-اَمَّ
আশা করা যায়, এরপর থেকে ইনশাআল্লাহ, আমরা শুদ্ধভাবে হরফগুলো উচ্চারণ করতে পারব।

